ফ্রিল্যান্সিং কি? কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করবো? ফ্রিল্যান্সিং বাংলা টিপস

Freelancing Bangla Tips

ফ্রিল্যান্সিং কি? কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করবো? ফ্রিল্যান্সিং বাংলা টিপস

বর্তমান তরুণ সমাজের মাঝে বহুল পরিচিত এবং জনপ্রিয় একটি নাম হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। ফ্রিল্যান্সিং এর উৎপত্তি মূলত অর্থের বিনিময়ে মুক্ত ও স্বাধীন ভাবে কাজ করা যোদ্ধাদের থেকে ফ্রিল্যান্সারদের উৎপত্তি। ১৮১৯ সালে প্রথম ফ্রিল্যান্সার শব্দ ছাপা হয় “Walter Scott” নামক এক লেখকের বইতে। (তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া)

আসলে সত্যি বলতে আদতে এই ফ্রিল্যান্সিং কি তা নিয়েও অনেকেরই অনেক ধরনের কৌতুহল রয়েছে। এটি এমন একটি পেশা যেখানে আপনি ঘরে বসেই নিজেকে স্বাবলম্বী করে তুলতে পারবেন। ইতিমধ্যে অনেকেই নিজেকে এই পেশায় একটি সফল জায়গায় নিয়ে দাড় করিয়েছে। তাই সময়ের পরিক্রমায় বাহিরের দেশগুলোর সাথে সাথে বাংলাদেশেও এই পেশার চাহিদা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে।

আমাদের আজকের আর্টিকেলে আমরা, ফ্রিল্যান্সিং কি, এবং কিভাবে আপনি ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন সে সম্পর্কিত একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্টা করবো। তাহলে চলুন প্রথমেই জেনে নেই ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে।

ফ্রিল্যান্সিং কি? What is Freelancing in Bangla?

আক্ষরিক অর্থে বলতে গেলে ফ্রিল্যান্সিং অর্থ হচ্ছে মুক্তপেশা। অর্থাৎ যে পেশায় আপনি ইচ্ছাস্বাধীনভাবে এক অথবা একাধিক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করতে পারবেন। এরচেয়ে সহজ ভাষায় বলতে গেলে, আপনি ঘরে বসেই যেকোনো একটি কাজের উপর দক্ষতা অর্জন করে এক বা একাধিক ক্লায়েন্টকে সেবা প্রদান করতে পারেন তাকেই ফ্রিল্যান্সিং বলে। এখানে আপনি নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ পছন্দ করে তার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আর এরজন্য প্রয়োজন হবে ইন্টারনেট সংযোগ সহ একটি কম্পিউটার, ল্যাপটপ অথবা স্মার্টফোন। তবে স্মার্টফোন দিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে যা ল্যাপটপ অথবা কম্পিউটারে নেই। তাই অধিকাংশ মানুষ ফ্রিল্যান্সিং কাজের জন্য ল্যাপটপ অথবা কম্পিউটারকেই আদর্শ মনে করে থাকেন।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, এখানে আপনি বিভিন্ন প্রকারভেদের কাজ পেয়ে যাবেন, যেখান থেকে আপনার পছন্দমতো একটি কাজ বাছাই করে নিতে পারবেন। তাছাড়া, এখানে আপনাকে অফিসের মত ধরাবাঁধা কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কাজ করতে হবে এমন নয়। আপনি আপনার সুবিধামতো দিনের যেকোনো একটি সময়কে আপনার কাজের জন্য নির্ধারণ করে নিতে পারেন। কিন্তু আপনাকে অবশ্যই ক্লায়েন্টের দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সীমার মাঝেই কাজটি শেষ করতে হবে।

 

কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শিখবেন?

ফ্রিল্যান্সিং কি তা সম্পর্কে তো জানা হয়ে গেলো কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবেন? এখানে একটু ভুল সংশোধন করে নিচ্ছি। আসলে ফ্রিল্যান্সিং একক কোনো কাজ নয়, অর্থাৎ এই সেক্টরে অনেক ধরনের কাজ আছে যা দিয়ে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করতে পারবেন। তাই আপনাকে শিখতে হবে যেকোনো একটি কাজ। তাই আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি কোন কাজটি শিখতে চাচ্ছেন। 

এক্ষেত্রে আপনি যদি একেবারেই নতুন হয়ে থাকেন তবে প্রথমেই কোনো পেইড কোর্সে ভর্তি না হওয়াই ভালো। কারণ ফ্রিল্যান্সিংয়ের যেকোনো ধরনের কাজ শিখার জন্য ইন্টারনেট থেকে অনেক ফ্রি সোর্স পেয়ে যাবেন। সেখান থেকে আপনার বাছাইকৃত কাজটি সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা নিয়ে তারপরেই কোনো পেইড কোর্সে ভর্তি হওয়াই ভালো।

এখানে কিছু ফ্রি সোর্সের তালিকা দিচ্ছিঃ

  • Google
  • YouTube
  • Udemy
  • Coursera
  • W3School
  • Lynda

এই সাইটগুলো আপনাকে বিনামূল্যে যেকোনো কাজ শিখার সুযোগ করে দিবে। এমনকি এখান থেকে যদি আপনি তাদের কোর্সগুলো ঠিকঠাক সম্পন্ন করতে পারেন তাহলে আলাদা করে কোন পেইড কোর্সে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে এখানে Google এবং YouTube ছাড়া অন্যান্য সাইটগুলোতে বাংলাতে শিখার তেমন কোনো সুযোগ নেই। আপনি যদি ইংরেজিতে দুর্বল হয়ে থাকেন তাহলে গুগল এবং ইউটিউব থেকেও অনেক টিউটোরিয়াল পেয়ে যাবেন। তবে সেখান থেকে আপনাকে বাছাই করে নিতে হবে কোন ভিডিও অথবা কোন আর্টিকেলগুলো আপনার জন্য আসলেই সহায়ক হবে। কারণ ইউটিউবে আপনি অনেক টিউটোরিয়াল পেলেও সবগুলোই যে খুব কার্যকরী ও তথ্যবহুল এমন কিন্তু নয়। কারণ এখানে দক্ষ লোকেদের সাথে সাথে অনেক অদক্ষ লোকেরাও ভিডিও বানিয়ে থাকে। যেখান থেকে আপনি হয়তো অনেক ভুল তথ্য পেতে পারেন। তাই এর সবচাইতে ভালো সমাধান হচ্ছে আপনার কাজ সম্পর্কিত সব ধরনের টিউটরিয়াল দেখে যাচাই করা যে আসলেই কোন ভিডিওগুলো আপনার জন্য কার্যকরী। এর সাথে সাথে গুগলে নিয়মিত সার্চ করে পড়াশোনা করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। গুগলে যেকোনো বিষয়ের উপর প্রচুর আর্টিকেল পাবেন। যেকোনো কাজের উপর বেসিক ধারণা নেয়ার জন্য এই আর্টিকেলগুলো আপনাকে অনেক সাহায্য করবে। মনে রাখবেন, যেকোন কাজ শিখার জন্য মূল যেই জিনিস প্রয়োজন তা হচ্ছে একাগ্রতা এবং অধ্যাবসায়। এই জিনিসগুলো না থাকলে কিন্তু আপনি কোন কাজই ঠিক মত শিখতে পারবেন না।

ফ্রিল্যান্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজের প্রকারভেদ

ফ্রিল্যান্সিংয়ে আসলে কত ধরনের কাজ রয়েছে তার সঠিক সংখ্যা হয়তো কেউ বলতে পারবেনা। কারন এই ক্ষেত্রে কাজের কোন শেষ নেই। আমি যখন প্রথম ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে পড়াশোনা শুরু করি তখন পছন্দসই কাজ বাছাই করে নিতে সবচেয়ে বেশি দ্বিধাদ্বন্দের সম্মুখীন হতে হয়েছে। কারন আমার তখন কোনো ধারণাই ছিল না কোন কাজটি আমার জন্য সবচাইতে সেরা হবে। অথবা কোন কাজটির উপর দক্ষতা অর্জন করলে আমি সবচেয়ে বেশি লাভবান হবো। আমার অভিজ্ঞতা থেকে আমি এতটুকু বলতে পারি আপনি সেই কাজটিই নির্ধারণ করুন যেটি আপনি সবচেয়ে ভালো করতে পারবেন। কারন ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে সব ধরনেরই কাজের চাহিদা রয়েছে। তাই অন্যকে একটি কাজে সফল হতে দেখেই সেটিতেই ঝাপ দিয়ে পরবেন না। 

সবচেয়ে ভালো হয় আপনি কিছুদিন সময় নিন। আপনি কোন কাজটিতে নিজের সেরাটা দিতে পারবেন সেটি খুঁজে বের করুন। মনে রাখবেন ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে কিন্তু কি কাজ করছেন তার উপর ভিত্তি করে সফলতা অর্জন করা যায় না। বরং সফলতা নির্ভর করে আপনি সেই কাজে কতোটা দক্ষতা অর্জন করেছেন তার উপর। নিচে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কিছু জনপ্রিয় কাজের তালিকা দিচ্ছিঃ

  • প্রোগ্রামিং
  • ওয়েব ডেভেলপমেন্ট
  • ডিজিটাল মার্কেটিং
  • গ্রাফিক্স ডিজাইন
  • এসইও
  • কনটেন্ট রাইটিং
  • টাইপিং
  • ডেটা এন্ট্রি
  • অনুবাদ
  • ভিডিও এডিটিং
  • ফ্রীল্যান্স ফটোগ্রাফি, ইত্যাদি

এই প্রত্যেকটি কাজের আবার আলাদা আলাদা ভাগ রয়েছে। তবে বর্তমানে এই কাজগুলোই অধিকাংশ মানুষের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। তাই কেউ ফ্রিল্যান্সিং এ ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে এই কাজগুলোই বেছে নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তাহলে চলুন এই কাজগুলো সম্পর্কে ছোট্ট করে একটু ধারনা নিয়ে আসি।

প্রোগ্রামিংঃ মূলত যারা ওয়েবসাইট, অ্যাপস, অথবা কোন সফটওয়্যার তৈরি করতে চান তারাই প্রোগ্রামিং কাজটাকে বেছে নেন। প্রোগ্রামিং শিখার জন্য আপনাকে কোডিং এর উপর ভালো দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আমারা মানুষরা যেমন ভাব আদান প্রদান করার জন্য ভাষার ব্যবহার করে থাকি তেমনি কম্পিউটারও তার নিজস্ব ভাষা ব্যবহার করে কাজ করে। তাই কম্পিউটারকে ইন্সট্রাকশন দিতে চাইলে শিখতে হবে প্রোগ্রামিং। প্রোগ্রামিংয়ের বেশ কয়েকটি ল্যাংগুয়েজ আছে যেমনঃ C, C++, html, CSS, PHP, Java, Python, Laravel ইত্যাদি।

ওয়েব ডেভেলপমেন্টঃ এটি প্রোগ্রামিংয়েরই একটি অংশ। এখানে প্রোগ্রামিংয়ের ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করেই সব ধরনের কাজ করা হয়। ওয়েব ডেভেলপমেন্টের মধ্যে রয়েছে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা থেকে শুরু করে ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব কন্টেন্ট ডেভেলপমেন্ট, ক্লায়েন্ট-সাইড/সার্ভার-সাইড স্ক্রিপ্টিং এবং নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি কনফিগারেশন, ইত্যাদি। ওয়েবসাইট নিয়ে যাদের আগ্রহ আছে তারা এই সেক্টরে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে পারেন।

ডিজিটাল মার্কেটিংঃ ডিজিটাল মার্কেটিং কে অনলাইন মার্কেটিংও বলা হয়ে থাকে। ইন্টারনেট এবং অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহার করে সম্ভাব্য গ্রাহকদের সাথে সংযোগ স্থাপনের এবং তাদের মাঝে নিজের পণ্যের প্রচার করাই ডিজিটাল মার্কেটিং। এর মধ্যে রয়েছে ইমেইল মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, কন্টেন্ট মার্কেটিং এবং ওয়েব ভিত্তিক বিজ্ঞাপন। আজকাল অনেকেরই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ডিজিটাল মার্কেটিং। এবং খুব সফলতার সাথে ক্যারিয়ারও গড়ে তুলছেন অনেকে।

গ্রাফিক্স ডিজাইনঃ অনেকেই আর্ট অথবা ডিজাইন করতে পছন্দ করেন তাদের জন্য গ্রাফিক্স ডিজাইন নিয়ে কাজ করাটা বেস্ট হবে। গ্রাফিক্স ডিজাইন এর মধ্যে রয়েছে লোগো, ব্যানার, পোস্টার, ইনফোগ্রাফিক্স, বুক কভার, প্রোডাক্ট লেবেল, বিজনেস কার্ড, সাইন, ওয়েবসাইট লেআউট, মোবাইল অ্যাপস, সফটওয়্যার ইন্টারফেস, ইত্যাদি।

এসইওঃ SEO এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Search Engine Optimization। অর্থাৎ যেকোন ওয়েবপেজকে গুগল এবং অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিনে দৃশ্যমান করানোর জন্য এসইও খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা পালন করে। ব্যবসা, ব্লগ বা ওয়েবসাইট পরিচালনাকারী সকল ব্যবসায়ী এবং বিপণন পেশাদারদাররা তাদের পণ্যকে টার্গেট ভিজিটরদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য “এসইও” ব্যবহার করে থাকেন। 

আপনি যদি এসইও সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে চান তাহলে ঘুরে আসুন  White hat Local SEO Expert in Bangladesh – Kawsar Hossain  আমাদের পেইজটি থেকে।

কনটেন্ট রাইটিংঃ লেখালেখিতে যাদের আগ্রহ রয়েছে তারা সহজেই কনটেন্ট রাইটিংয়ে নিজেদের একটি ভাল ক্যারিয়ার গড়ে নিতে পারেন। তবে তার জন্য আপনাকে ভাষার ওপর ভালো দক্ষতা অর্জন করতে হবে। সাধারণত বাংলা কন্টেন্টের চাইতে ইংরেজি কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করলে তুলনামূলক ভালো ক্যারিয়ার গড়া যায়। আপনি যদি ইংরেজিতে দক্ষ হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্য কনটেন্ট রাইটিংটা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। তবে ইদানিং বাংলা কন্টেন্টের চাহিদাও কম নয়। তাই আপনি যেই ভাষাতেই পারদর্শী হোন না কেনো সেটাতেই কাজ শুরু করে দিন।

টাইপিংঃ ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে তুলনামূলক সহজ কাজ গুলোর মধ্যে টাইপিং একটি। বাহিরের দেশ থেকে প্রচুর ক্লায়েন্ট বিভিন্ন ডকুমেন্টস টাইপিংয়ের জন্য সুলভ মূল্যে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সার হায়ার করে থাকেন। তাই আপনার যদি টাইপিং এর উপর ভালো দক্ষতা থেকে থাকে তাহলে মার্কেটপ্লেসগুলোতে টাইপিংয়ের অনেক কাজ পেয়ে যাবেন।

ডেটা এন্ট্রিঃ ডেটা এন্ট্রি হল কম্পিউটারে ইনপুট ডিভাইস, যেমন কীবোর্ড, স্ক্যানার, ডিস্ক এবং ভয়েস ব্যবহার করে তথ্য প্রবেশ করানো। ডেটা এন্ট্রি এমন একটি কাজ যেখানে একজন কর্মী কম্পিউটারে ফর্ম বা অন্যান্য নন-ইলেকট্রনিক ফর্ম থেকে ডেটা ইনপুট করে থাকে। আপনার যদি এমএস ওয়ার্ড এবং এমএস এক্সেলের উপর ভালো দক্ষতা থাকে তাহলে আপনি অনায়েসেই ডেটা এন্ট্রির কাজগুলো করতে পারবেন।

অনুবাদঃ ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে অনুবাদকদেরো ভালো চাহিদা রয়েছে। তবে এরজন্য আপনাকে ভাষার উপর ভালো পারদর্শী হতে হবে। শুধুমাত্র ইংরেজি এবং বাংলা ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেও অনুবাদের কাজ সহজেই করতে পারবেন। আর যদি এরচেয়ে বেশি ভাষার উপর জ্ঞান থাকে তাহলে তো কথাই নেই।

ভিডিও এডিটিংঃ ভিডিও এডিটিং হল কোনো ভিডিও অথবা একটি মুভি তৈরির জন্য ভিডিও ক্লিপ, ছবি এবং শব্দগুলিকে একত্রিত করার প্রক্রিয়া। আজকাল, মোবাইল অথবা কম্পিউটারে বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করে খুব সহজেই ভিডিও এডিটিং করা হয় যাকে নন-লিনিয়ার এডিটর বা এনএলই বলা হয়। 

ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফিঃ ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফি করেও অনেকে ফ্রিল্যান্সিং করে থাকেন, এবং এর চাহিদাও প্রচুর। বিশেষ করে ফুড ফটোগ্রাফিতে ইদানিং অনেকেরই আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। এছাড়া অন-লাইন বিজনেসের জন্য পণ্যের মানসম্মত ফটোগ্রাফি করাটা খুব জরুরি। একজন ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার হিসাবে, আপনি কোন ধরনের কাজ করবেন তা নিজেই বেছে নিতে পারেন এবং আপনার স্টাইল বা রুচির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন কাজ এড়িয়ে যেতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সিং কি? কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন?

নতুন নতুন ফ্রিল্যান্সিংয়ে এসে অনেকেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগেন কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন। আপনি প্রোগ্রামার, ওয়েব ডিজাইনার, কন্টেন্ট রাইটার বা ডেভেলপার হিসেবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে চান কেনো, এই সহজ ধাপগুলো আপনার যাত্রা শুরু করতে সাহায্য করবে।

তবে শুরু করার আগে কয়েকটি বিষয় পরিষ্কার করে নিচ্ছি।

ফ্রিল্যান্সিং খুব সহজ এমনটি ভাবার কিছু নেই বরং এটি আপনার ধারনার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। কিছু লোক বিশ্বাস করে যে ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেট সংযোগসহ যে কেউ অনলাইনে টাকা উপার্জন করতে পারে। কিন্তু, এটা সত্যি নয়।

আপনি যদি ফ্রিল্যান্সার হওয়ার এবং আর্থিক স্বাধীনতা পাওয়ার লক্ষ্য অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে ইচ্ছুক হন তবেই আপনি এই পথে এগুতে পারেন।

লক্ষ্য নির্ধারণ করুনঃ প্রথমেই আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি আসলে কি করতে চান বা আপনার লক্ষ্য কি? লক্ষ্য নির্ধারণ না করা পর্যন্ত আপনি কোন কাজেই সফলতা অর্জন করতে পারবেন না। এমন একটি কাজ বাছাই করুন যেটা আপনি সবচেয়ে ভালো করতে পারবেন অথবা যে কাজ সম্পর্কে আপনার আগে থেকেই ধারণা আছে। অনেকের ক্ষেত্রেই এই কাজ নির্ধারণ করাটাই সবচেয়ে বেশি কঠিন হয়ে পড়ে। তবে চিন্তার কিছু নেই, সময় নিয়ে ভাবুন এবং সিদ্ধান্ত নিন।

দক্ষতা অর্জন করুনঃ দক্ষতা অর্জন করা আসলে সময়ের ব্যাপার। রাতারাতি কেউই কোনো কাজে দক্ষ হয়ে যেতে পারেনা। তাই এর জন্য চাই সময় এবং লেগে থাকা মনোবল। আপনাকে প্রথমেই যে একদম দক্ষ হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। সময়ের সাথে সাথে অনুশীলনের মাধ্যমে যেকোনো কাজে দক্ষতা অর্জন করে নিতে হবে। 

একটি ভালো পোর্টফোলিও তৈরি করুনঃ আপনি যেই কাজটি শিখেছেন সেই কাজে আপনি কতোটা পারদর্শী তা একজন ক্লায়েন্টকে কি করে বুঝাবেন? এক্ষেত্রে একটি ভালো মানের পোর্টফোলিও আপনাকে কাজ পেতে অনেক বেশি সহায়তা করবে। অনেকেই জানেন না পোর্টফোলিও কি অথবা কীভাবে পোর্টফোলিও তৈরি করবেন।

তাদের বোঝার সুবিধার জন্য বলছি, ধরুন আপনি এসইও নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন, এবং ইতিমধ্যেই এসইও নিয়ে ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও দেখেছেন। গুগলে সার্চ দিয়ে অনেক এসইও এক্সপার্ট এর ওয়েবসাইট ঘাঁটাঘাঁটি করেছেন। অনেক রিসার্চ করার পর ভালো মানের পেইড কোর্স করেছেন। এখন ব্লগার ডট কম- এ একটি ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন এবং কিছু কনটেন্ট দিয়ে সেটা রেঙ্ক করার চেষ্টা করতে থাকুন। দেখবেন একবার যদি রেঙ্ক করতে পারেন তাহলে নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলবে। আর আপনি ক্লায়েন্টকে আপনার পোর্টফোলিও দেখাতে পারবেন। ওয়েবসাইটে আপনার সম্পর্কিত সকল তথ্য দিয়ে রাখুন। তৈরি হয়ে গেলো আপনার একটি পোর্টফোলিও যা আপনার পরবর্তী সময়ে বিভিন্নভাবে কাজে লাগবে।

নিজের কাজের মূল্য নির্ধারণ করুনঃ ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে আপনি মূলত তিন ভাবে কাজ করতে পারেন। 

  • Hourly rate
  • Project rate
  • Monthly rate

Hourly rate এ কাজ করলে আপনি প্রতি ঘন্টায় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে চার্জ করতে পারবেন। দেশের বাইরে বেশিরভাগ মানুষজন Hourly rate এই কাজ করে।

Project rate এ প্রতি প্রজেক্টের উপর নির্ধারণ করে একটি নির্দিষ্ট অ্যামাউন্ট চার্জ করতে পারবেন।

Monthly rate এ আপনি সারা মাসের কাজের সেলারি মাস শেষে একসাথে নিতে পারবেন।

এখন ঠিক করে নিন আপনি কোন রেটে কাজ করতে যাচ্ছেন এবং আপনার কাজের মূল্য কত নির্ধারণ করেছেন।

মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে ধারণা নিনঃ কাজ শিখা হয়ে গেলে আপনাকে কাজ পাওয়ার জন্য অবশ্যই মার্কেটপ্লেসগুলোতে যেতে হবে। তাই বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে ধারণা রাখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ন। মার্কেটপ্লেস মূলত দুই ধরনেরঃ আন্তর্জাতিক এবং লোকাল। এখানে আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসের একটি তালিকা দিচ্ছিঃ

  • Upwork
  • Fiverr
  • Freelancer
  • People Per Hour
  • SEO Clerks
  • Guru
  • 99designs

এছাড়া বাংলাদেশী লোকাল মার্কেটপ্লেসগুলো থেকেও আপনি পছন্দমতো কাজ পেতে পারেন। যেমনঃ BelancerTruelancer, ইত্যাদি। তাছাড়াও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো থেকেও প্রচুর কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপগুলোতে সার্চ করলে দেখতে পাবেন অনেক ক্লায়েন্টরা বিভিন্ন কাজের জন্য ফ্রিল্যান্সার নিয়োগ দিয়ে থাকেন।

মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুনঃ মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা হয়ে গেলে সেখানে আপনার একটি মানসম্মত অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ফেলুন। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হচ্ছে প্রেসেন্টেশন। আপনি আপনার একাউন্টটিকে যত সুন্দর করে ক্লায়েন্টের কাছে প্রেজেন্ট করবেন আপনার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা ততই বেড়ে যাবে। আপনার সম্পর্কে সকল ধরনের তথ্য এবং আপনি কোন কাজে পারদর্শী তার পোর্টফোলিও দিয়ে সুন্দর করে একাউন্টটিকে সাজান। যাতে একজন ক্লায়েন্ট আপনার অ্যাকাউন্টটি ঘুরে দেখলে বুঝতে পারে আপনি কতটা প্রফেশনাল। তবে একটি কথা মনে রাখবেন, ভালোভাবে কাজ না শিখে কখনোই মার্কেটপ্লেস অ্যাকাউন্ট খুলতে যাবেন না। এতে আপনার একাউন্টে পারফরম্যান্স রেট কমে যাবে এবং পরবর্তীতে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যান হয়ে যেতে পারে।

ইংরেজিতে ন্যূনতম দক্ষতা অর্জন করুনঃ কনটেন্ট রাইটিং ব্যতীত অন্য যেকোন কাজের ক্ষেত্রে আপনাকে অন্তত ইংরেজিতে কথোপকথন এর দক্ষতা রাখতে হবে। আর যদি ইংরেজিতে কনটেন্ট রাইটিং এর কাজ করেন তাহলে তো আপনাকে এ ভাষায় সম্পূর্ণভাবে পারদর্শী হতে হবে।

আপনি যদি বাইরের দেশের ক্লায়েন্টের ইনস্ট্রাকশন ভালোভাবে না বুঝেন তাহলে ভালোভাবে কাজ কিভাবে ডেলিভারি দিবেন। ক্লায়েন্টের রিকোয়ারমেন্টস আপনাকে অবশ্যই স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে এবং তার জন্য ইংরেজি শেখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কাজের জন্য বিড করুনঃ সর্বশেষ কিন্তু সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আপনাকে কাজ পেতে হলে ক্লায়েন্টের দেওয়া প্রজেক্টে বিড অর্থাৎ আবেদন করতে হবে। অবশ্য প্রত্যেকটি মার্কেটপ্লেসে কাজ পাওয়ার ব্যাপারে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। Upwork এবং Freelancer এ ক্লাইন্টের প্রজেক্টের উপর বিড করেই কাজ পেতে হয়। অন্যদিকে Fiverr এবং SEO Clerks এ নিজেকেই বিভিন্ন কাজের সার্ভিস তৈরি করে রাখতে হয়। আপনার সার্ভিস যাচাই-বাছাই করে ক্লায়েন্টই আপনাকে নক দিবে।

 

ফ্রিল্যান্সিং কি? ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কিত কিছু কথা

১. ফ্রিল্যান্সিং হালাল নাকি হারাম?

প্রত্যেকটি কাজের মতো ফ্রিল্যান্সিংয়েও হালাল হারাম ব্যাপারটি রয়েছে। তবে এটা আপনাকে নির্ধারণ করে নিতে হবে আপনি হালাল কাজ করবেন নাকি হারাম। এখানে অধিক আয়ের উদ্দেশ্যে এমন কোনো কাজ করা যাবেনা যাতে অন্যকে ঠকানো হয় অথবা ভুল পথে পরিচালিত করা হয়। আপনি যদি সৎভাবে পরিশ্রমের সাথে কাজ করেন তবে এখানে হারামের ভয় থাকবেনা। মূল কথা আপনার বিবেক বোধ কাজে লাগিয়ে কাজ করবেন। যে কাজ আপনার কাছে নৈতিকতা বিরোধী মনে হবে সেই কাজ থেকে বিরত থাকবেন।

২. ফ্রিল্যান্সিং কেন কঠিন?

ফ্রিল্যান্সিং আসলে সহজ কোনো কাজ নয়। আপনাকে এখানে টিকে থাকতে হলে অবশ্যই কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, এবং ফ্রিল্যান্সার হিসেবে সফল হওয়ার জন্য দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হতে হবে। আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং দক্ষতা বিকাশের জন্য আপনাকে প্রচুর সময় দিতে হবে। এই কঠিন প্রক্রিয়াটিকে সহজ করার একটি ভাল উপায় হলো, একজন প্রশিক্ষক খুঁজে বের করা। এবং এর সাথে মানসম্মত কোর্স এবং বই পড়ার মাধ্যমে আপনার দক্ষতা উন্নত করা।

৩. ফ্রিল্যান্সিং–এ সবচেয়ে সহজ কাজ কোনটি?

ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে সবচেয়ে সহজ কাজ গুলো হচ্ছে ডেটা এন্ট্রি, অনুবাদ, টাইপিং, ক্যাপচা পূরন এবং কপি পেস্ট। এই সহজ কাজগুলো আপনি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে করতে পারেন। কিন্তু, মনে রাখবেন এই সহজ কাজগুলো বেশি দিন স্থায়ী হয়না। আপনি যদি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে একটি শক্ত ক্যারিয়ার গড়তে চান তবে আপনাকে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।

Kawsar Hossain

Kawsar Hossain

হ্যালো, আমি কাওছার হোসেন। খুব সাধারন একজন মানুষ। আমি সবসময় চেষ্টা করি নতুন কিছু শিখতে এবং সেই জিনিস গুলা সবার সাথে শেয়ার করতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published.